কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি

 লিখেছেনঃ
  জানু. 4, 2020
  1019 Views
0 0

টুকিটাকি

                                                    বহু দেশে দেখিয়াছি,বহু নদ দলে

                                               কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে!

 

মাইকেল মধুসূদন দত্তের অপার তৃষ্ণা মিটেছিল কপোতাক্ষ নদের জলে। বাংলা সাহিত্যের গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে তিনি সৃষ্টি করেছিলেন এক নতুন পথ। সে পথে পা দিয়েছিলেন সে সময়ের নব্য সাহিত্যিকেরা। রামায়ণের নায়ক রাম কে উপেক্ষা করে নায়কের আসনে বসালেন রাবণকে। লাখো পাঠকের মনে স্থান পেলো রাবণের সন্তানহারা পিতৃস্নেহ ও ভারাক্রান্ত রাবণের চরিত্র। মেঘনাদবধ কাব্যের নায়ককে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেলেন কবি মাইকেল। তার তুলির আঁচড়ে তৈরি হলো বাংলার প্রথম সার্থক মহাকাব্য মেঘনাদবধ।

জীবনের তাগিদে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে তিনি থেকেছেন কিন্তু বারবার তার জন্মভূমি কপোতাক্ষ নদ ও সাগরদাঁড়ি গ্রামের টান অনুভব করছেন প্রতিনিয়ত। তিনি বাংলা সাহিত্যের জন্য যে অনস্বীকার্য অবদান রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাংলা সাহিত্য ধারাকে সমৃদ্ধ করবে। কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তর বাড়ি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলায়। তার শৈশব কাটে এখানে। এখানে রয়েছে তার ব্যবহার করা কয়েকটি ভবন, পুকুরঘাট এবং কবির নানা স্মৃতিবিজড়িত জিনিসপত্র।যা নিয়ে বর্তমানে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এটি বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন।

অবস্থান

এটি বাংলাদেশের যশোর জেলা শহর থেকে প্রায় ৫২ কিলোমিটার দূরে কেশবপুর উপজেলার সন্নিকটে সাগরদাঁড়ি নামক গ্রামে অবস্থিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি

১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৪ জানুয়ারি সাগরদাঁড়ি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৮৩৬ সালে পাড়ি জমান কলকাতায়। তিনি ফ্রান্সে থাকাকালীন  তার ধর্ম পরিবর্তন করে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হন। বিয়ে করেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী রেবেকাকে। মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে সাগরদাঁড়ি গ্রামে আসলে তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয় না। টানা ১৪-১৫ দিন তিনি কপোতাক্ষ নদের পাড়ে তাঁবু গেড়ে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে তিনি কলকাতায় চলে যান তারপরে আর সাগরদাঁড়িতে ফিরে আসেননি।

জীবনে নানা সময়ে তিনি অর্থকষ্টে ভুগেছেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুপ্রেরণায় তিনি ফ্রান্সে আইন পড়ে শেষ অব্দি দেশে ফিরে আসতে পেরেছিলেন। বর্তমানে বাড়িটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন। বাড়িটি এখন জাদুঘর হিসেবে দর্শনার্থীদের জন্য সংস্কার করা হয়েছে।

দোতলা বিশিষ্ট বাড়িটির ওপরতলা নিচ তলা সহ মোট ৬ টি ঘর  রয়েছে।  এরমধ্যে কবির নানা আলোকচিত্র একটি ঘরে ঠাঁই পেয়েছে। বাড়ির সম্মুখভাগে রয়েছে একটি মন্দির যা কবির পরিবার পূজা অর্চনা করত। একটি ঘরে তৈরি করা হয়েছে পাঠাগার। বাড়ির প্রধান ফটকে রয়েছে কবি মধুসূদনের একটি ভাস্কর্য। সামনের দিকে একটি আম গাছের সাথে আছে একটি ফুলের বাগান।

সময়সূচী

এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা এবং অক্টোবর থেকে মার্চ প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শুক্রবার ১২:৩০ থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বিরতি। সাপ্তাহিক ছুটি রবিবার এছাড়া অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ থাকে।

টিকেট মূল্য

দেশি পর্যটকদের জন্য টিকিটের মূল্য ১০ টাকা বিদেশি ১০০ টাকা।গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।বাস ১০০ টাকা জীবগারি ৫০ টাকা ও সাইকেল ১০ টাকা।

কিভাবে যাবেন

ঢাকার কল্যাণপুর, গাবতলী, মহাখালী, আরামবাগ, ফকিরাপুল থেকে যশোর যাওয়ার বাস প্রতিদিনই পাওয়া যায়।

বাস

দেশ ট্রাভেলস (কল্যাণপুর মোবাইল-017626844401, যশোর নিউ মার্কেট মোবাইল-0173335194-3)
হানিফ পরিবহন (কল্যাণপুর মোবাইল-01713049541, যশোর মোবাইল-01713049560)
ঈগল পরিবহন (কল্যাণপুর মোবাইল-01779492989, যশোর বেনাপোল মোবাইল-01793327969)
নন এসি ৪৫০ টাকা এসি ১০০০ টাকা ভাড়া।

অনলাইনে টিকিট বুকিং এর জন্য, সহজ-16374
বাস বিডি-16460

ট্রেন

ঢাকা কমলাপুর থেকে যশোর স্টেশন

বেনাপোল এক্সপ্রেস ছাঁড়ে  12:40 Am পৌঁছায় 07:50 Am
বন্ধ বৃহস্পতিবার

সুন্দরবন প্রভাতী ছাঁড়ে 6:20 Am পৌঁছায়  2:20 pm
বন্ধ বুধবার

চিত্রা ছাঁড়ে 7:00 pm পৌঁছায় 3:40 Am
বন্ধ সোমবার

যশোর স্টেশন থেকে ঢাকা কমলাপুর

চিত্রা ছাঁড়ে 9:51 Am পৌঁছায় 06:20 pm
বেনাপোল এক্সপ্রেস ছাঁড়ে 2:07 pm পৌঁছায় 08:55 pm
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ছাঁড়ে  9:30 pm পৌঁছায় 5:40 Am

সকল ট্রেনের ভাড়া ৪৭৫ টাকা

[ যশোর শহর থেকে কেশবপুর উপজেলা ৩৬ কিলোমিটার পথ। বাস বা সিএনজি যোগে এক ঘণ্টার মতো সময় লাগে আর ভাটা পড়বে ৪০-৫০ টাকার মতো। কেশবপুর উপজেলা থেকে সাগরদাঁড়ি গ্রাম ১৬ কিলোমিটার পথ। কেশবপুর উপজেলা হতে বাস সিএনজি যোগে সাগরদাঁড়ি গ্রাম দেখতে যেতে পারেন]

কোথায় থাকবেন

কেশবপুর উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি ভাবে বিভিন্ন ধরনের হোটেল ও আবাসন আছে।

সরকারি:-

জেলা পরিষদ প্রদর্শন বাংলো কেশবপুর, যশোর।

মোবাইল- ০১৭৩৮-৩৯৮৭৮৭

সাগরদাড়ী, জেলা পরিষদ প্রদর্শন বাংলো কেশবপুর, যশোর।

মোবাইল- ০১৭২৫-১৫৩৩৬১

পর্যটন করপোরেশন, সাগরদাড়ী, কেশবপুর, যশোর।

মোবাইল- ০১৭১২-৫৭৬৬১৯

যশোর শহরে থাকার মতো বিভিন্ন মানের হোটেল ও সার্কিট হাউজ রয়েছে।

জাবির হোটেল ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল-01885000555
হোটেল সিটি প্লাজা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল-01795477977
হোটেল আর এস ইন্টারন্যাশনাল  ফোন-0421-62617
হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল ফোন-0421-67478

[ হোটেল গুলোর ভাড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে পড়বে]

Article Categories:
খুলনা · যশোর
banner

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।