মধুসূদনের পাঠশালা শেখপুরা জামে মসজিদ

 লিখেছেনঃ
  জানু. 4, 2020
  811 Views
0 0

টুকিটাকি

যশোর জেলার ঐতিহ্যবাহী স্থান সাগরদাঁড়ি। এই সাগরদাঁড়িতে জন্মেছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত। আইন বিষয়ে পড়তে গিয়েছিলেন ইংল্যান্ডে কিন্তু সেখানে আবহাওয়া এবং বর্ণবাদীতার কারণে বেশি দিন ইংল্যান্ডে থাকেন নি। পরবর্তীতে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে  চলে যান। সেখানে তিনি কাব্যরচনা করে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি সবার মাঝে। সুদূর ফ্রান্স এ ইংরেজি রচনার প্রতি ভুল অনুরাগ জন্মালেও ভুলে যাননি তার সাগরদাঁড়ি জন্মভূমিকে।

এই সাগরদাঁড়িতে অবস্থিত শেখপুরা জামে মসজিদ আর এই মসজিদটির পাঠশালাতে ১৮৩০ সালে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা পড়ার হাতে খড়ি। এই মসজিদের ইমাম মৌলভী লুৎফর হক কবীর প্রথম শিক্ষাগুরু।   তিনি কবি কে বাংলা ও ফরসি শিখিয়েছেন। সে সময় এত স্কুল-কলেজ ছিলনা। মক্তব ভিত্তিক পাঠাশালা ছিল সবার কাছে একমাত্র পড়াশোনার মাধ্যম। শেখপুরা জামে মসজিদ তেমনই একটি উল্লেখযোগ্য পাঠশালা।

অবস্থান

এটি বাংলাদেশের যশোর জেলা শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে কেশবপুর উপজেলার শেখপুরা নামক গ্রামে অবস্থিত।

মধুসূদনের পাঠশালা শেখপুরা জামে মসজিদ

ষোল শতকের মাঝামাঝি সময়ে ভারত উপমহাদেশে মুঘল সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন হলেও সম্রাট আকবরের সময় ১৬ শতকের শেষের দিকে তিনি বাংলার  দিকে মনোযোগ দেন। তার বংশধর সম্রাট শাহজাহানের পুত্র আওরঙ্গজেব এর শাসনামলে এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি তৈরি হয়। ঠিক কত খ্রিস্টাব্দে মসজিদটি তৈরি হয় তা জানা যায়নি। আওরঙ্গজেবের শাসনামলে তিনি বাংলা এসেছিলেন বেশ কয়েকবার। বাংলাদেশের দক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী মসজিদটির নির্মাণ শৈলী মোগল সাম্রাজ্যের স্মৃতি বহন করে।

১৯৯৭ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মসজিদটি সংস্কার ও পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা দেয়। বাংলার প্রথম বিদ্রোহী কবি মাইকেল তার শিক্ষা জীবন শুরু করেন এখানে। মূলত  কবি ফারসি ভাষা  সেখেন  এখানে। মসজিদটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট। মসজিদের সামনের বারান্দার ৮ টি স্তম্ভ যুক্ত খোলা প্রবেশপত্র আছে। মসজিদের ভিতরে প্রবেশের জন্য তিনটি দরজা রয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ২২ মিটার ও প্রস্থ ১৭ মিটার প্রায়। প্রতি জুম্মার নামাজে এখানে দুর-দুরান্ত থেকে মানুষ নামাজ পড়তে আসে।

কিভাবে যাবেন

ঢাকার কল্যাণপুর, গাবতলী, মহাখালী, আরামবাগ, ফকিরাপুল থেকে যশোর যাওয়ার বাস প্রতিদিনই পাওয়া যায়।

বাস

দেশ ট্রাভেলস (কল্যাণপুর মোবাইল-017626844401, যশোর নিউ মার্কেট মোবাইল-0173335194-3)
হানিফ পরিবহন (কল্যাণপুর মোবাইল-01713049541, যশোর মোবাইল-01713049560)
ঈগল পরিবহন (কল্যাণপুর মোবাইল-01779492989, যশোর বেনাপোল মোবাইল-01793327969)
নন এসি ৪৫০ টাকা এসি ১০০০ টাকা ভাড়া।

অনলাইনে টিকিট বুকিং এর জন্য, সহজ-16374
বাস বিডি-16460

ট্রেন

ঢাকা কমলাপুর থেকে যশোর স্টেশন

বেনাপোল এক্সপ্রেস ছাঁড়ে  12:40 Am পৌঁছায় 07:50 Am
বন্ধ বৃহস্পতিবার

সুন্দরবন প্রভাতী ছাঁড়ে 6:20 Am পৌঁছায়  2:20 pm
বন্ধ বুধবার

চিত্রা ছাঁড়ে 7:00 pm পৌঁছায় 3:40 Am
বন্ধ সোমবার

যশোর স্টেশন থেকে ঢাকা কমলাপুর

চিত্রা ছাঁড়ে 9:51 Am পৌঁছায় 06:20 pm
বেনাপোল এক্সপ্রেস ছাঁড়ে 2:07 pm পৌঁছায় 08:55 pm
সুন্দরবন এক্সপ্রেস ছাঁড়ে  9:30 pm পৌঁছায় 5:40 Am

সকল ট্রেনের ভাড়া ৪৭৫ টাকা

[ যশোর শহর থেকে কেশবপুর উপজেলা ৩৬ কিলোমিটার পথ। বাস বা সিএনজি যোগে এক ঘণ্টার মতো সময় লাগে আর ভাটা পড়বে ৪০-৫০ টাকার মতো। কেশবপুর উপজেলা থেকেশেখপুরা জামে মসজিদ ১২ কিলোমিটার পথ। কেশবপুর উপজেলা হতে বাস, সিএনজি যোগে শেখপুরা জামে মসজিদ দেখতে যেতে পারেন]

কোথায় থাকবেন

কেশবপুর উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি ভাবে বিভিন্ন ধরনের হোটেল ও আবাসন আছে।

সরকারি:-

জেলা পরিষদ প্রদর্শন বাংলো কেশবপুর, যশোর।

মোবাইল- ০১৭৩৮-৩৯৮৭৮৭

সাগরদাড়ী, জেলা পরিষদ প্রদর্শন বাংলো কেশবপুর, যশোর।

মোবাইল- ০১৭২৫-১৫৩৩৬১

পর্যটন করপোরেশন, সাগরদাড়ী, কেশবপুর, যশোর।

মোবাইল- ০১৭১২-৫৭৬৬১৯

যশোর শহরে থাকার মতো বিভিন্ন মানের হোটেল ও সার্কিট হাউজ রয়েছে।

জাবির হোটেল ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল-01885000555
হোটেল সিটি প্লাজা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল-01795477977
হোটেল আর এস ইন্টারন্যাশনাল  ফোন-0421-62617
হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল ফোন-0421-67478

[ হোটেল গুলোর ভাড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে পড়বে]

Article Categories:
যশোর
banner

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।