মহাস্থানগড়

 লিখেছেনঃ
  নভে. 20, 2019
  809 Views
1 1

উপমহাদেশের প্রাচীন নগরী নামে খ্যাত এই মহাস্থানগড় পুন্ড্রনগর বা পুন্ড্রবর্ধন নামে পরিচিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম-ষষ্ঠ শতকে এই অঞ্চলকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল নানা স্থাপনা। পূর্বে এর নাম  পুন্ড্রনগর বা পুন্ড্রবর্ধন হলেও বর্তমানে মহাস্থানগড় বলেই এটি সর্বাধিক পরিচিত।

আজ থেকে আড়াই হাজার বছর পূর্বে গড়ে ওঠা এই নগরীর ঐতিহ্য ও ইতিহাস মলিন হলেও এর ভগ্নপ্রায় স্থাপনাগুলো হাতছানি দেয় এখনো এখানে আসা ইতিহাস প্রেমীদের। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন একটি স্থাপনা এটি।

মূলত উঁচু উঁচু স্থান নিয়ে এর স্থাপনাগুলো গড়ে উঠেছে। মহাস্তানগড় অর্থ উঁচু স্থান। সৃষ্টির প্রারম্ভ থেকে এখানে মূলত বৌদ্ধ ও হিন্দু রাজাদের রাজত্ব ছিল। বগুড়া শহরের সন্নিকটে করোতোয়া নদীর পশ্চিমে এর অবস্থান। প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী এই মহাস্থানগড়ে একবার হলেও দেখে যায় । সার্ক ঘোষিত অন্যান্য স্থাপনার মধ্যে এটি অন্যতম স্থাপনা যা ২০১৬ সালে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে এটিকে ঘোষণা করে।

ইতিহাসে আমরা পরশুরামের নামে  যাকে চিনি তিনি মূলত এ অঞ্চলে নাল ও নীল এ দুই ভাইয়ের বিরোধের অবসান করে এই নগরের রাজা হন। তিনি এই পুন্ড্র নগরের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটান। গুপ্ত বংশের রাজধানী ও ছিল এই মহাস্থানগড়। পরবর্তীতে  সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষণ সেন ১২ শতকে এখানে এসেছেন।

মৌর্য গুপ্তর আমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে চীন থেকে পরিব্রাজক এসেছেন উপমহাদেশে। চীন,তিব্বত থেকে ধর্ম শিক্ষার জন্য অনেক চৈনিক ও তিব্বতি শিক্ষার্থী এই মহাস্থানগড়ে এসেছেন শিক্ষায় শিক্ষিত হতে। পরবর্তীতে তারা জ্ঞান অর্জন করে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পরতেন তাদের বৌদ্ধধর্ম প্রসারে। সে সময় মহাস্থানগড় জ্ঞানচর্চার এক অন্যতম স্থান ছিল।

১৭ শতক পর্যন্ত এই মহাস্থানগড় লোকচক্ষুর আড়ালে জনাকীর্ণ অবস্থায়  ছিল।  ১৮ শতকের শুরুর দিকে অনেকে এর ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার ও উদঘাটনের চেষ্টা করে। সর্বপ্রথম উনিশ শতকের মাঝামাঝি ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সিস বুকানন মহাস্থানগড় আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে আলেকজান্ডার কানিংহাম আজকের মহাস্থানগড় পূর্বে যে পুন্ড্রনগর নামে রাজধানী ছিল তা প্রমাণ করেন।

[ রবি ও সোমবার সকালে এই জাদুঘরটি বন্ধ থাকে এবং প্রতিদিন দুপুর ১২:৩০ থেকে দুপুর ২:৩০ পর্যন্ত মধ্যাহ্নবিরতি]

কি কি দেখবেন

[ মহাস্থানগড় এর আশেপাশে ৫০০  মিটারের মধ্যে এই দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে পারবেন]

জিয়ৎ কুন্ড

গোবিন্দ ভিটা

পরশুরামের প্রাসাদ

মাজার শরীফ

জাদুঘর

খোদার পাথর ভিটা

স্কন্ধের ধাপ

বৈরাগীর ভিটা

কালিদহ সাগর

শীলাদেবীর ঘাট

 

কিভাবে যাবেন

ঢাকার কল্যাণপুর গাবতলী মহাখালী  থেকে বগুড়া যাওয়ার বাস প্রতি আধা ঘণ্টা পর পর পাওয়া যায়।

বাস

শ্যামলী পরিবহন (টেকনিকেল মোবাইল-01865068922, বগুড়া ফোন-051-64155)
নাবিল পরিবহন (কল্যাণপুর মোবাইল-01869811012, বগুড়া মোবাইল-01774976078)
ডিপজল এন্টারপ্রাইজ (কল্যাণপুর মোবাইল-01882004524, বগুড়া মোবাইল-01882004534)
ভাড়া নন এসি ৩৫০ টাকা এসি ১০০০ টাকা।

ট্রেন

ঢাকা কমলাপুর থেকে বগুড়া

রংপুর এক্সপ্রেস ছাড়ে সকাল 9:00 Am পৌঁছায় 3:45 Pm ভাড়া ৪১৫ টাকা
বন্ধ সোমবার

লালমনি এক্সপ্রেস ছাড়ে 10:30 pm পৌঁছায় 5:18 Am ভাড়া ৪১৫ টাকা
বন্ধ শুক্রবার

[ মহাস্থানগড় বগুড়া শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার উত্তরে বগুড়া-ঢাকা  বিশ্ব রোডের পাশে অবস্থিত। বগুড়া শহর থেকে বাস বা সিএনজি যোগে করোতোয়া নদীর পাশে এই মহাস্থানগড়ে যাওয়া যায় ২০-২৫ মিনিট সময় লাগে আর ভাড়া পড়বে ২৫-৩০ টাকার মতো]

কোথায় থাকবেন

বগুড়া শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল ও মডেল রয়েছে।

হোটেল আকবরিয়া ,কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক, থানা রোড, বগুড়া মোবাইল- 01716179982

হোটেল নাজ গার্ডেন ছিলিমপুর বগুড়া ফোন-051-62468,051-66655

পর্যটন মোটেল শেরপুর মোড়, বনানী, বগুড়া ফোন-051-67024-7

[ এখানে চার তারকা হোটেল রয়েছে,  ভাড়া ৫০০-৬০০০ টাকার মধ্যে পড়বে]

Article Categories:
রাজশাহী
banner

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।