খেরুয়া মসজিদ

 লিখেছেনঃ
  নভে. 21, 2019
  544 Views
1 0

টুকিটাকি

বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা গুলোর মধ্যে  বগুড়ার খেরুয়া মসজিদ অন্যতম। মসজিদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সুলতানি আমলের স্থাপনার সাথে মিল রেখে মুঘল আমলের স্থাপনার সমন্বয় করে তৈরি হয়েছে মসজিদটি।বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের সাথে এই মসজিদের সাদৃশ্য পাওয়া যায়।  প্রায় সাড়ে ৪৫০ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন।

ইতিহাস

মসজিদের সামনের দেয়ালে উৎকীর্ণ শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৫৮২ সালে আলী কাকশালের পুত্র মির্জামুরাদ খান এটি নির্মাণ করেছিলেন। ‘কাকশাল’উপাধি ছিল তুর্কিদের দেওয়া। ঘোড়াঘাট অঞ্চল ছিল তুর্কি জায়গীরদার দের অধীন।   ঐতিহাসিকদের অনুমান মির্জা খান কাকশাল শেরপুরের জায়গীরদার বা ফৌজদার ছিলেন। এ মসজিদের খেরুয়া নামের কোন ইতিবৃত্ত পাওয়া যায়নি। আরবি ফারসি ভাষায় খেরুয়া বলে কোন শব্দ পাওয়া যায় না।

গঠন

মসজিদটির বড় আকর্ষণ হল চতুষ্কোণে  চারটি বিশালাকার মিনার। প্রায় ৪-৫  মিটার ব্যাসের মিনারগুলো মসজিদটিকে দাঁড় করিয়ে রেখেছে অনেকটা। মোঘল সুলতানি আমলের মসজিদ গুলোর আকৃতিতে তৈরি এ মসজিদটির বাইরে পোড়ামাটির নানা নকশা বিমোহিত করে পর্যটকদের। ইটের দেয়াল গুলো প্রায় ৫ ফুট চওড়া। মসজিদটি দৈর্ঘ্য-প্রস্থে ১৮× ৮ মিটার।

মসজিদের পূর্বের দেয়ালে তিনটি ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি করে দরজা রয়েছে। মসজিদের ভেতরের অংশে পশ্চিম দিকে তিনটি মেহরাব লক্ষ করা যায়। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ এর গম্বুজ গুলোর ব্যাস প্রায় ৪ মিটার। মসজিদের সামনে সবুজের চাদরে ঘেরা মাঠটির দক্ষিনে একটি কবর রয়েছে। প্রায় দুই বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদটিতে   একসাথে  একশত পঞ্চাশ  জন মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।

অবস্থান

এটি বাংলাদেশের বগুড়া জেলা শহর হতে ২০ কিলোমিটার দূরে উপজেলা শেরপুরের উত্তর দিকে খোন্দকার টোলা নামক স্থানে অবস্থিত।

কিভাবে যাবেন

বাস

শ্যামলী পরিবহন (টেকনিকেল মোবাইল-01865068922, বগুড়া ফোন-051-64155)
নাবিল পরিবহন (কল্যাণপুর মোবাইল-01869811012, বগুড়া মোবাইল-01774976078)
ডিপজল এন্টারপ্রাইজ (কল্যাণপুর মোবাইল-01882004524, বগুড়া মোবাইল-01882004534)
ভাড়া নন এসি ৩৫০ টাকা এসি ১০০০ টাকা।

ট্রেন

ঢাকা কমলাপুর থেকে বগুড়া

রংপুর এক্সপ্রেস ছাড়ে সকাল 9:00 Am পৌঁছায় 3:45 Pm ভাড়া ৪১৫ টাকা
বন্ধ সোমবার

লালমনি এক্সপ্রেস ছাড়ে 10:30 pm পৌঁছায় 5:18 Am ভাড়া ৪১৫ টাকা
বন্ধ শুক্রবার

[ বগুড়া শহর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দক্ষিনে শেরপুর উপজেলায় এটি অবস্থিত। বাস বা সিএনজি যোগে শেরপুর বাস স্ট্যান্ড নেমে সেখান থেকে ভ্যান বা অটোতে খেরুয়া মসজিদ যেতে পারেন। বগুড়া থেকে শেরপুর আসতে ২০-৩০ মিনিট সময় লাগে আর ভাড়া পড়বে ২৫-৩০ টাকার মতো]

কোথায় থাকবেন

[ শেরপুরে তেমন থাকার কোন ব্যবস্থা নেই চাইলে শেরপুর উপজেলা ডাকবাংলোতে থাকতে পারে সেজন্য আগে থেকে অনুমতি নিয়ে থাকতে হবে]

বগুড়া শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল ও মডেল রয়েছে।হোটেল আকবরিয়া ,কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক, থানা রোড, বগুড়া মোবাইল- 01716179982

হোটেল নাজ গার্ডেন ছিলিমপুর বগুড়া ফোন-051-62468,051-66655

পর্যটন মোটেল শেরপুর মোড়, বনানী, বগুড়া ফোন-051-67024-7

[ এখানে চার তারকা হোটেল রয়েছে,  ভাড়া ৫০০-৬০০০ টাকার মধ্যে পড়বে]

Article Categories:
রাজশাহী
banner

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।